রাস্তা দিয়ে হাটতেছি । একটা সুন্দরী মেয়ে দেখে বেশ………………

Sharing is caring!

এটাই বাস্তবতা!
.
রাস্তা দিয়ে হাটতেছি । একটা সুন্দরী মেয়ে দেখে বেশ
কয়েক বার তাকালাম । মেয়েটা হুট করেই আমাকে বলে বসলো, কি ব্যাপার ? সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তাকাতে হয় ? জীবনে মেয়ে দেখেন নি ?
আমি বললাম সরি ভুল হয়েছে । আর তাকাবো না, বলে চলে আসলাম ।
-> দুই দিন পর একটা মেয়ে আমাকে দেখে এভাবে বেশ
কয়েকবার তাকালো । এরপর আমি গিয়ে উনাকে বললাম,
কি ব্যাপার ? সুন্দর ছেলে দেখলেই তাকাতে হয় ?
জীবনে ছেলে দেখেন নি ?
মেয়েটা তখন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে বলল,
উরিসশালা ! যেই না চেহারা আবার নাম রাখছে
পেয়ারা । তুই কি এমন হিরো যে তোকে আমার দেখতে
হবে ? আয়নায় মুখ দেখছোস কখনো ?
আমি তখন বললাম আমার ভুল হইছে । বলে আবার সরি বলে চলে আসলাম ।

=> একদিন বাসে করে যাচ্ছি । ভীড়ের মধ্যে এক মেয়ের শরীরে হাত লেগে গেল । মেয়েটা তখন চিল্লায়ে বলে
উঠলো, লুইচ্চা বদমাইশ ! মেয়ে দেখলেই ধাক্কা দিতে
ইচ্ছে করে ? বাসায় মা বোন নাই ?
আমি তন্দ্রা খেয়ে দাঁড়ায় আছি । বাসের লোকজন কটমট
করে আমার দিকে তাকাচ্ছে । কেউ মারার জন্য শার্টের
হাতা গুটাচ্ছে । আমি তখন বললাম সরি আমার ভুল হইছে ।
আমাকে তখন বাস থেকে নামায় দেওয়া হলো ।
এর কয়েকদিন পর একই রকম ভাবে চলন্ত বাসে এক মেয়ের
হাত আমার শরীরে লাগলো । আমি তখন চিল্লায়ে
বললাম, লুইচ্চা ডাইনী ! ছেলে দেখলেই ধাক্কা দিতে
ইচ্ছে করে ? বাসায় বাপ ভাই নাই ?
মেয়েটা তখন উল্টা ঝারি দিয়ে বলল, আরে ভাদাইম্যা
বেটা তোরে ধাক্কা দিতে কি ঠেকা পরছে আমার ?
আমার কি খাইয়া কাজ নাই যে তোকে ধাক্কা দিমু ? ভুল
করেও যে গায়ে হাত লাগতে পারে এটা মাথায় ঢুকে না ?
আমি আবার তন্দ্রা খেয়ে গেলাম । বাসের বাকী
লোকজন আমার দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপের হাসি হাসছে ।
আমি তখন আবার মেয়েটাকে সরি বলে বাস থেকে নেমে গেলাম ।

=> আমার এক বন্ধু একটা মেয়েকে পছন্দ করে । সেই মেয়েটা
আবার আমাকে পছন্দ করে । একদিন আমার বন্ধু
মেয়েটাকে প্রপোজ করে বসলো । মেয়েটা শপাং করে
আমার বন্ধুকে মারলো এক থাপ্পড় । যারা উপস্থিত ছিল
সবাই বলল উচিত বিচার । একদম ঠিক হইছে ।
এর কয়েক দিন পর মেয়েটা আমাকে প্রপোজ করে বসলো ।
আমি তখন শপাং করে মারলাম এক থাপ্পড় । কিন্তু একি !
থাপ্পড় দেওয়ার সাথে সাথেই উপস্থিত মানুষজন আমাকে
ধরে ফেললো । কয়েক জন নাকে মুখে কয়েকটা বসিয়েও
দিলো । তারপর বেঁধে রাখলো । আমার বাবা মা মেয়ের
বাবা মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমাকে বাড়ি নিয়ে
আসলো ।

=> এক মেয়ে লুঙ্গী পরে ফেইসবুকে ছবি আপলোড দিলো ।
শিরোনামে লিখলো, ইয়াহহহহহ….. আমিও পারি লুঙ্গী
পরতে । সেখানে কমেন্ট গুলো ছিলো এরকম:
জোশ লাগছে আপ্পু,
ফাটাফাটি,
অস্থির লাগছে,
এবার লুঙ্গীও দখল ওয়াও ।
এর কয়েক দিন পর আমিও ফেইসবুকে শাড়ী পরে একটা
ছবি আপলোড দিলাম । শিরোনামে লিখলাম, ইয়াহহহহ….
আমিও পারি শাড়ী পরতে । সেখানে কমেন্ট গুলো ছিলো
এরকম:
শালা হাফ লেডিস,
হিজড়া একটা,
পাবনা যাও,
ছেলেদের ইজ্জতটা আর রাখলি না ।

=> চাকুরীর ভাইভা দিতে গেছি । ওয়েটিং রুমে বসে আছি ।
আমার পাশে একটা মেয়ে আছে সেও ভাইভা দিতে
আসছে । উনার সাথে কথা বার্তার এক পর্যায়ে উনার
কাগজপত্র গুলো দেখলাম । উনার চাইতে আমার রেজাল্ট বেশ ভালো ।
মেয়েটার আগেই আমার ডাক পড়লো । ভাইভা দিলাম খুব ভালোই ।
এরপর মেয়েটা গেলো । আমি বসে থাকলাম মেয়েটার
ভাইভা কেমন হয় জানার জন্য ।
মেয়েটা ফিরে এসে বলল তার ভাইভা ভালো হয় নি ।
বলতে গিয়ে মেয়েটা কেঁদেই ফেলল । আমি তখন
মেয়েটাকে শান্তনা দিলাম । মনে মনে আমি খুশী । যাক
চাকুরীটা তাহলে আমার হয়ে যাবে হয়তো ।
কিন্তু যেদিন ভাইভার ফল বের হলো সেদিন জানলাম যে
অফিস থেকে মেয়েটাকেই সিলেক্ট করা হয়েছে
আমাকে নয় ।

=> একদিন বাসে অনেক কষ্টে একটা সীট পেলাম । কিছুক্ষণ যাওয়ার পর পরের স্টপেজে একটা মেয়ে উঠলো ।
মেয়েটা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে আমি বসে যাচ্ছি এই বিষয়টা
আমি নিতে পারলাম না । মেয়েটাকে বললাম আপনি
বসেন আমি দাঁড়িয়ে যাচ্ছি । মেয়েটা বসে পড়লো ।
আমি সারা পথ দাঁড়িয়ে গেলাম ।
এর কিছুদিন পর আমি খুব অসুস্থ অবস্থায় বাসে উঠলাম ।
বাসে কোনো সীট পেলাম না । অনেক কষ্ট হচ্ছিল আমার।
আমার পাশেই বেশ কয়েকটা মেয়ে সীটে বসে হৈ হুল্লোর করে যাচ্ছিলো । কিন্তু কেউ আমাকে অসুস্থ দেখেও একটা সীট ছেড়ে দিলো না ।

=> ফেইসবুকে নারী নামে একটা ফেমাস পেইজ আছে । প্রায় এগারো লাখ লাইক আছে এই পেইজে । শুনেছি সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার লাইকও নাকি পরছে একটা পোস্টে। এই দেখে আমিও পুরুষ নামে একটা পেইজ খুলে ফেললাম । বেশ ভালভাবে রাইটারদের এডমিন মোডারেটর দিলাম ।
কিন্তু পেইজের কোনো উন্নতি নাই ।

=>একদিন আমি নারীদের অধিকার নিয়ে খুব সুন্দর করে লিখলাম । পুরুষেরা কিভাবে নারীদের শোষণ করছে সেগুলোও লিখলাম । লেখাটা পোস্ট করার পর সবার কাছ থেকে খুব ভাল ভাল মন্তব্য পেলাম । ছেলেরা সবাই আমাকে বলল, ভাই খুব ভাল লিখেছেন । সমাজের সব পুরুষ
যদি নারীদের নিয়ে ভাবতো !
মেয়েদের কাছ থেকেও ভালো সাড়া পেলাম । আমাকে
মেয়েরা এমনিতেই পছন্দ করে এই পোস্টের পর আরো
জনপ্রিয় হয়ে গেলাম ।
প্রশংসায় ভাসলাম কয়েকদিন । এই ঘটনা থেকে আমি
উত্সাহিত হয়ে একদিন পুরুষদের নিয়েও লিখে ফেললাম ।
উপরে যে ঘটনাগুলে লিখলাম সেগুলোর বর্ণনা দিয়ে
সবাইকে বুঝালাম শুধুমাত্র পুরুষ হওয়ার সুবাদে একটা পুরুষ কতদিক দিয়ে অবহেলিত অবস্থায় আছে । শুধু পুরুষ হওয়ার
কারণে কতকিছু নীরবেই হজম করে যাচ্ছে পুরুষেরা ।
যাইহোক এবার আমি আশা করলাম যেহেতু নারী নিয়ে
লেখার কারণে সাধুবাদ পেয়েছি পুরুষ নিয়ে লেখার
কারণেও অনেক প্রশংসা পাবো । মেয়েরাও আমার গুণ
গাবে । কিন্তু অপ্রত্যাশিত ভাবে এরকম কিছুই হলো না । মেয়েরা আমার উপর ক্ষেপে গেল । আজে বাজে কমেন্ট করলো । সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে ছেলেরাও বেশ
কয়েকজন আমার বিপক্ষে চলে গেল । আমার লেখাটা
নাকি খুব নিম্ন মানের হয়েছে । যুক্তিহীন হয়েছে । আমি
মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে লাগলাম হায়রে নারী নিয়ে
লিখলেই যুক্তিযুক্ত সব দারুণ । পরে আমি পোস্ট টি
ডিলেট করে দিতে বাধ্য হই ।

আমার এই লেখা পড়লে তথাকথিত অনেক আধুনিক
ফেমিনিস্টই এখানে বলতে আসবেন মেয়েরা বেশি
অবহেলিত । কিন্তু মেয়েরা বিপদে পড়লে সবাই সেটা
সলভ করতে চায় । ছেলেরা বিপদে পড়লে কয়জন এগিয়ে আসে?

Facebook Comments
shares